বৃহস্পতিবার । ১৪ই মে, ২০২৬ । ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩

বাগেরহাটে চাহিদার তুলনায় বেশি ৭ হাজার কোরবানির পশু, আকর্ষণে ‘কালু’ ও ‘ধলু’

সাগর মল্লিক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাগেরহাট জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকবে ৭ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু। এসব পশু কেনাবেচার জন্য জেলায় মোট ২৯টি পশুর হাট বসার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছায়েব আলী জানান, “জেলায় এ বছর কোরবানির জন্য মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৩৮ হাজার ৪৩৫টি, ষাঁড় ২৭ হাজার ৬৩৭টি, বলদ ২ হাজার ৫০৩টি এবং গাভী ৮ হাজার ২৯৫টি। এছাড়া ৪৪ হাজার ৭০৯টি ছাগল, ১ হাজার ৪৪৩টি ভেড়া, ২৫৬টি মহিষ এবং অন্যান্য ১২৪টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। সেই হিসেবে চাহিদা পূরণের পর জেলায় ৭ হাজার ৭৮টি গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

এবারের কোরবানির বাজারে বিশেষ নজর কাড়ছে মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি খামারের দুটি বিশাল গরু। খামারি তাজুল ইসলাম তার প্রিয় গরু দুটির নাম রেখেছেন ‘কালু’ ও ‘ধলু’। এর মধ্যে ‘কালু’র ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি এবং ‘ধলু’র ওজন ১ হাজার কেজি। এই গরু দুটিকে ঘিরে খামারি এক ব্যতিক্রমী অফার ঘোষণা করেছেন। প্রতিটি গরু বিক্রির সময় ক্রেতাকে একটি করে ছাগল উপহার দেওয়া হবে। তবে কোনো ক্রেতা যদি কালু ও ধলুকে একসাথে কেনেন, তবে উপহার হিসেবে তিনি পাবেন ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিশাল ছাগল।

খামারি তাজুল ইসলাম বলেন, “আমি গত দুই বছর ধরে কালু ও ধলুকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পরম মমতায় বড় করেছি। কোনো প্রকার ক্ষতিকর ইনজেকশন বা মোটা তাজা করার ওষুধ ব্যবহার করিনি। এখন কোরবানির উপযুক্ত হওয়ায় গরু দুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু গরু দুটি আমার খুব প্রিয়, তাই ক্রেতার আনন্দ বাড়িয়ে দিতেই আমি সাথে ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।”

নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, “এ বছর জেলায় ১৭টি স্থায়ী এবং ১২টি অস্থায়ী মিলে মোট ২৯টি হাট বসবে। তবে অনলাইন হাটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিটি হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। কোনো অসুস্থ পশু যাতে হাটে প্রবেশ করতে না পারে এবং ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ আশা করছে, পর্যাপ্ত যোগান ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার কারণে এবার বাগেরহাটের কোরবানির বাজার ক্রেতা ও খামারি উভয়ের জন্যই সন্তোষজনক হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন